শেয়ারের ফাটকা খেলায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ আইনি সীমায় নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনেক আগেই দৃঢ়তা দেখানো উচিত ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সাবেক গভর্নর বলেন, ২০০৮ সালের শেষভাগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা সব ধরনের চাপ উপেক্ষা করে বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে তারা কেবল হুঁশিয়ারি দিয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমে কর্মরত অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মুদ্রানীতিবিষয়ক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল রোববার সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইআরএফের সভাপতি মনোয়ার হোসেন আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু কাওসার।
ডিএসইর প্রভাবে ২০০৯ সালের মধ্যভাগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ ভেস্তে যায়—এ তথ্য উল্লেখ করে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেটা কি বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের দুর্বলতা, না প্রয়োগের। এর জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন একটি কুশলতার কাজ। বিচারবুদ্ধি দিয়ে এটা করতে হয়। আবার কতগুলো জায়গায় কঠোরতা দেখাতে হয়।
সাবেক গভর্নর বলেন, ‘একজন গেল আর পরিবর্তন হয়ে গেল, এটা ঠিক নয়। যেমন এসইসিতে হয়েছে। আমার সময়ও একটি ব্যাংক অধিগ্রহণের বিষয়ে অনেক চাপ এসেছিল। আবার ১/১১-এর পরও অনেক চাপ ছিল। কিন্তু সেটা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। ফলে কঠোর হতেই হবে, না হলে আর্থিক খাত কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাবে।’
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে কর্মসংস্থান না হলে ক্ষতি হয়। এখন নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে। তিনি আরও বলেন, মুদ্রা সরবরাহ কমালেই যে মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক হবে, এটা ঠিক নয়। আর মুদ্রা সরবরাহ কমানোর আগে দেখা দরকার, আসলে কোন খাতে কত অর্থ যাচ্ছে।
সালেহউদ্দিন বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে সিআরআর বাড়ানো, বিনিয়োগকে আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনা এবং ব্যাংকগুলোর বার্ষিক স্থিতি তৈরির সময়কাল খুব কাছাকাছি হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। বিধিবদ্ধ জমা মার্চ-এপ্রিল বা ডিসেম্বরের কয়েক মাস আগে করলে এটা হতো না।
সাবেক গভর্নর বলেন, ‘তবে আমানতকারীর টাকা ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়। এতে লাভ হলে উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারীরা তার সুবিধাভোগী হন। কিন্তু লোকসানের দায় যায় আমানতকারীর ঘাড়ে।’
ব্যাসেল-৩ আগামী ২০১৮ সালে আসবে, কিন্তু এখন থেকে বাংলাদেশে তার শর্ত অর্থাৎ তদারকি ও নজরদারি এবং তার ভিত্তিতে শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরামর্শ দেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
পুঁজিবাজার নিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন শেয়ার আসছে না, কিন্তু সারা দেশে ব্রোকারেজ হাউস খুলতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এরা তো ব্যবসা করতে চাইবেই। আবার আইপিও এলেও তা হচ্ছে অতিমূল্যায়িত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিহিত মূল্যের চেয়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি প্রিমিয়াম দেওয়া হয়, কিন্তু আমাদের দেশে অনেক গুণ বেশি প্রিমিয়াম দেওয়া হয়েছে।’
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, পুঁজিবাজারের মধ্যে বন্ড বাজারও থাকতে হবে। কিন্তু দেশে এর উন্নয়ন হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত এটির উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এসইসির মধ্যে জীবন্ত যোগাযোগ স্থাপনের পরামর্শ দেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আমি তো ভয় পাচ্ছি, শুধু পুঁজিবাজার নয়, আর্থিক খাতে কোনো সমস্যা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে। তাহলে প্রকৃত খাতে বিপর্যয় দেখা যাবে। ফলে সময় এসেছে, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মূলত মূল্যস্ফীতি সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি করে থাকে। এর লক্ষ্যগুলো খুবই সীমিত। পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গভর্নর তো বটেই, নিচের দিক থেকেও সব সময় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, সিআরআরের কারণে মাত্র দুই হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢুকেছে। বিপরীতে রেপোতে সাত হাজার কোটি টাকা বাজারে এসেছে। অথচ শেয়ার নিয়ে যাঁরা খেলেন, তাঁরা ধরে নিলেন, এর কারণে পুঁজিবাজারে তারল্য-সংকট হয়েছে। এটা একেবারেই সঠিক নয়।
ইব্রাহিম খালেদ বলেন, মাত্র পাঁচটি ব্যাংক বাজারে ‘ফাউল প্লে’ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সাবধান করলেও অ্যাকশন নিতে পারেনি।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে হবে না, মূল্যস্ফীতিকে আটকাতে হলে তাকে সহায়তা দিতে হবে নানাভাবে। খাদ্য মজুদ ১২ লাখ টনের ওপরে থাকতে হবে। টিসিবিকে কোম্পানি করতে হবে ও আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে হবে।
ডিএসইর সাবেক সহসভাপতি আহমেদ রশীদ লালীর এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সারা বিশ্বে শেয়ারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার হিসাব করা হয় বাজারদরে। এর কিছু কার্যকারণ দিকও আছে। তিনি আরও বলেন, মুদ্রাবাজারে কোনো তারল্য-সংকট নেই। ৩০ ডিসেম্বর ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছিল। দু-একটা ব্যাংকের সম্পদ ও দায় ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি আছে মাত্র। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের প্রথম ভাগে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসইসির সঙ্গে এক বৈঠকে বাজার যে অতিমূল্যায়িত, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এ সময় বিশ্লেষণ করে তথ্য ও তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়।
next
রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১১
শেয়ারবাজার অনিয়মের তদন্ত হবে, কাল থেকে লেনদেন
শেয়ারবাজারের বর্তমান সূচক ছয় হাজার ৩০০ পয়েন্ট, আর মূল্য অনুপাতে আয় (পিই) ২৩। বাজারের এই অবস্থা খুবই সহনশীল। সবকিছু সত্ত্বেও এই বাজারকে স্থিতিশীল করা সম্ভব।
এ কথা উল্লেখ করে কাল মঙ্গলবার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্থিতিশীলতার স্বার্থে এখন থেকে বাজারকে নিজের গতিতে চলতে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ সময় অর্থমন্ত্রী অনিয়মের তদন্ত করতে ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে আরোপ করা সাম্প্রতিক মূল্যসূচকে সার্কিট ব্রেকার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর একক কোম্পানির ক্ষেত্রে বর্তমানে শেয়ারের দামের ওপর যে সার্কিট ব্রেকার রয়েছে, শিগগির তা পরিবর্তন করা হবে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’ এবং সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগ মুহূর্তে সচিবালয়ে বাজার নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ দুই সভায় যেসব মতামত এসেছে, তার ভিত্তিতেই উল্লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সকালের সভায় সবাই খোলামেলা কথা বলেছেন। এতে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এ দুই ধরনের সুপারিশ এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার বড় হয়েছে। কিন্তু আইনকানুন বা এসইসির জনবল বদলায়নি। এই মুহূর্তের বাজার নিয়ে মত এসেছে। যে সংকটটা তৈরি হয়েছে, সবাই কিছু কিছু এর অংশীদার। সবাই বাজারকে যেভাবে ব্যবহার করেছে, এর অনেক কিছু দেখার আছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডসহ (কেপিসিএল) মোট তিনটি কোম্পানির বিষয়েও তদন্তের কথা তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কীভাবে হলো বা অন্যান্য ঘটনা কীভাবে হয়েছে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে সব দেখা যাবে। দোষ দেওয়ার চেয়েও এখন বেশি দরকার হলো কাজগুলো কীভাবে হয়েছে, তা খুঁজে বের করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার কালও (সোমবার) বন্ধ থাকবে। তবে যেদিন খোলা হবে, সেদিন থেকেই কিছু আইনকানুন চালু করতে চাই। উদ্দেশ্য হলো, বাজারে আস্থা তৈরি করা।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন পাঁচ মিনিটের মাথায় যখন বাজার বন্ধ হয়ে গেল, তখন সূচক দাঁড়াল ছয় হাজার ৩০০ পয়েন্ট। আর বাজারের মূল্য অনুপাতে আয় (পিই) দাঁড়াল ২৩। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং যে উন্মত্ত ব্যবহার দেখা গেছে, বাজারের সঙ্গে তা মেলানো যায় না। প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের সমন্বয়টা তত ভালো নয়। তবে সমন্বয় ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসইসিতে বর্তমানে যে পরামর্শক কমিটি রয়েছে, এখন থেকে সেই কমিটিকে ঘন ঘন বসতে হবে। কমিটিকে নতুন করে সাজানো হবে, যাতে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শেয়ার বরাদ্দসংক্রান্ত এত দিন কোনো বিধিমালা ছিল না। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটিও বড় আশা করে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটি স্থগিত করা হয়েছে। আর এই পদ্ধতিতে বাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন দুই কোম্পানি মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এমআই সিমেন্টের লেনদেন হবে না বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুটি বন্ধ রাখছি।’
তবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটি ভালো বলে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে কোম্পানির পিই দেখাটা দরকার ছিল আগে। তার পরিবর্তে বাজারের দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যে একক কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার পরিবর্তন করা হবে। তবে মূল্যসূচকের ব্রেকার আর থাকবে না। কারণ, এটি করতে গেলে যে সফটওয়্যার দরকার, আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছিনি।’
বাজার ভালো রাখার স্বার্থে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে কোম্পানি আইনে প্রাইভেট পলিসি রয়েছে। অনেক দেশই তাদের কোম্পানি আইনকে ঢেলে সাজিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমরা এখনো পারিনি। তবে আমাদেরও উদ্যোগ রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে মার্চেন্টস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অনেক বিষয় তুলে ধরেছে। বলেছে যে, তাদের সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। সংস্কার লাগবে এবং তাদের কোথায় কী লাগবে, তা-ও বিবেচনা করা হবে। আর এটা খুব একটা বাজে কথা যে, বাজার থেকে টাকা চলে গেছে। এটা খামাখা কথা। তবে সামান্য টাকা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভালোই লাভ করেছে। লাভের টাকা যাতে বাজারে থাকে, সে ব্যাপারে তাদের দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
এসইসির কাজ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটির জনবল বাড়ানোর যে বিষয়টি ছিল, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এ ছাড়া ঠিক করা হবে এসইসির পর্ষদ। সমন্বয়ের কাজটি ভালোভাবে করার জন্য এসইসির পর্ষদে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি বাধ্যতামূলক করা হবে।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য সব সময়ই সতর্কবার্তা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর পরও বিনিয়োগকারীদের সাবধান থাকতে হবে। অনেক বিনিয়োগকারী বোধহয় জানেনই না যে, তাঁরা কয় টাকার শেয়ার কিনছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সবারই কর্তব্য।’
বাজার কি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ারবাজার সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ২৩ পিই অনেক সহনীয়।’
কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত ছয় ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ধারণার ওপর ভিত্তি করে এদের কারসাজির কথা বলা হচ্ছে। তবে এদের বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা হবে।’
’৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলার হাল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘এর কোনো সুরাহা করা যায়নি। কারণ, সাক্ষী নেই।’ ভবিষ্যতের কেলেঙ্কারিতেও যদি সাক্ষী না থাকে—প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, তখন সাক্ষী না থাকলেও কিন্তু সিডিবিএল রয়েছে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো প্রণোদনা থাকবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব দেননি এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার। তবে তিনি শুধু এইটুকু জানান, ‘গত বছর সূচকের যে ঊর্ধ্বগতি হয়েছে, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম। আর দ্বিতীয় ছিল আর্জেন্টিনা।’ গ্রাহকের ঋণসীমা বিষয়ে শিগগির একটি ডিরেক্টিভ দেওয়ার কথা জানান এসইসির চেয়ারম্যান।
এ কথা উল্লেখ করে কাল মঙ্গলবার থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। স্থিতিশীলতার স্বার্থে এখন থেকে বাজারকে নিজের গতিতে চলতে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ সময় অর্থমন্ত্রী অনিয়মের তদন্ত করতে ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি গঠনের কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশে আরোপ করা সাম্প্রতিক মূল্যসূচকে সার্কিট ব্রেকার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর একক কোম্পানির ক্ষেত্রে বর্তমানে শেয়ারের দামের ওপর যে সার্কিট ব্রেকার রয়েছে, শিগগির তা পরিবর্তন করা হবে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘পদ্মা’ এবং সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগ মুহূর্তে সচিবালয়ে বাজার নিয়ে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ দুই সভায় যেসব মতামত এসেছে, তার ভিত্তিতেই উল্লিখিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়েকুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সকালের সভায় সবাই খোলামেলা কথা বলেছেন। এতে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এ দুই ধরনের সুপারিশ এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজার বড় হয়েছে। কিন্তু আইনকানুন বা এসইসির জনবল বদলায়নি। এই মুহূর্তের বাজার নিয়ে মত এসেছে। যে সংকটটা তৈরি হয়েছে, সবাই কিছু কিছু এর অংশীদার। সবাই বাজারকে যেভাবে ব্যবহার করেছে, এর অনেক কিছু দেখার আছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডসহ (কেপিসিএল) মোট তিনটি কোম্পানির বিষয়েও তদন্তের কথা তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কীভাবে হলো বা অন্যান্য ঘটনা কীভাবে হয়েছে, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে সব দেখা যাবে। দোষ দেওয়ার চেয়েও এখন বেশি দরকার হলো কাজগুলো কীভাবে হয়েছে, তা খুঁজে বের করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার কালও (সোমবার) বন্ধ থাকবে। তবে যেদিন খোলা হবে, সেদিন থেকেই কিছু আইনকানুন চালু করতে চাই। উদ্দেশ্য হলো, বাজারে আস্থা তৈরি করা।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন পাঁচ মিনিটের মাথায় যখন বাজার বন্ধ হয়ে গেল, তখন সূচক দাঁড়াল ছয় হাজার ৩০০ পয়েন্ট। আর বাজারের মূল্য অনুপাতে আয় (পিই) দাঁড়াল ২৩। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং যে উন্মত্ত ব্যবহার দেখা গেছে, বাজারের সঙ্গে তা মেলানো যায় না। প্রশ্ন উঠেছে, আমাদের সমন্বয়টা তত ভালো নয়। তবে সমন্বয় ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসইসিতে বর্তমানে যে পরামর্শক কমিটি রয়েছে, এখন থেকে সেই কমিটিকে ঘন ঘন বসতে হবে। কমিটিকে নতুন করে সাজানো হবে, যাতে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের শেয়ার বরাদ্দসংক্রান্ত এত দিন কোনো বিধিমালা ছিল না। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটিও বড় আশা করে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটি স্থগিত করা হয়েছে। আর এই পদ্ধতিতে বাজারে আসার প্রক্রিয়াধীন দুই কোম্পানি মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্ট ও এমআই সিমেন্টের লেনদেন হবে না বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুটি বন্ধ রাখছি।’
তবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটি ভালো বলে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে কোম্পানির পিই দেখাটা দরকার ছিল আগে। তার পরিবর্তে বাজারের দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘দু-এক দিনের মধ্যে একক কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার পরিবর্তন করা হবে। তবে মূল্যসূচকের ব্রেকার আর থাকবে না। কারণ, এটি করতে গেলে যে সফটওয়্যার দরকার, আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছিনি।’
বাজার ভালো রাখার স্বার্থে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে কোম্পানি আইনে প্রাইভেট পলিসি রয়েছে। অনেক দেশই তাদের কোম্পানি আইনকে ঢেলে সাজিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমরা এখনো পারিনি। তবে আমাদেরও উদ্যোগ রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে মার্চেন্টস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অনেক বিষয় তুলে ধরেছে। বলেছে যে, তাদের সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। সংস্কার লাগবে এবং তাদের কোথায় কী লাগবে, তা-ও বিবেচনা করা হবে। আর এটা খুব একটা বাজে কথা যে, বাজার থেকে টাকা চলে গেছে। এটা খামাখা কথা। তবে সামান্য টাকা যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভালোই লাভ করেছে। লাভের টাকা যাতে বাজারে থাকে, সে ব্যাপারে তাদের দায়িত্বশীল হওয়া দরকার।
এসইসির কাজ বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটির জনবল বাড়ানোর যে বিষয়টি ছিল, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এ ছাড়া ঠিক করা হবে এসইসির পর্ষদ। সমন্বয়ের কাজটি ভালোভাবে করার জন্য এসইসির পর্ষদে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি বাধ্যতামূলক করা হবে।
তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য সব সময়ই সতর্কবার্তা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর পরও বিনিয়োগকারীদের সাবধান থাকতে হবে। অনেক বিনিয়োগকারী বোধহয় জানেনই না যে, তাঁরা কয় টাকার শেয়ার কিনছেন। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সবারই কর্তব্য।’
বাজার কি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ারবাজার সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ২৩ পিই অনেক সহনীয়।’
কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত ছয় ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ধারণার ওপর ভিত্তি করে এদের কারসাজির কথা বলা হচ্ছে। তবে এদের বিষয়ে আরও খতিয়ে দেখা হবে।’
’৯৬ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারির মামলার হাল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘এর কোনো সুরাহা করা যায়নি। কারণ, সাক্ষী নেই।’ ভবিষ্যতের কেলেঙ্কারিতেও যদি সাক্ষী না থাকে—প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, তখন সাক্ষী না থাকলেও কিন্তু সিডিবিএল রয়েছে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনো প্রণোদনা থাকবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব দেননি এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার। তবে তিনি শুধু এইটুকু জানান, ‘গত বছর সূচকের যে ঊর্ধ্বগতি হয়েছে, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম। আর দ্বিতীয় ছিল আর্জেন্টিনা।’ গ্রাহকের ঋণসীমা বিষয়ে শিগগির একটি ডিরেক্টিভ দেওয়ার কথা জানান এসইসির চেয়ারম্যান।
২০ জানুয়ারির লেনদেন বাতিলের দাবি বিনিয়োগকারীদের
Cকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের গত ২০ জানুয়ারির অস্বাভাবিক লেনদেন বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি বন্ধের জন্য ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর প্রতি এসইসিকে লিখিত নির্দেশ দেওয়ারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক এম জিহাদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল আহমেদ, মিজানুর রশীদ চৌধুরী ও আবদুর রাজ্জাক।
এম জাহাঙ্গীর বলেন, এসইসি সূচকে সার্কিট ব্রেকার বেঁধে দিলেও ২০ জানুয়ারি সূচক ৫৮৭ পয়েন্ট কমে যায়। অথচ সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী সূচক ২২৫ পয়েন্টের বেশি কমার কথা নয়। সূচক ৫৮৭ পয়েন্ট কমার মাধ্যমে এসইসির নির্দেশনা ভঙ্গ হয়েছে। তাই কমিশন যদি ওই দিনের লেনদেন বাতিল না করে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক এম জিহাদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল আহমেদ, মিজানুর রশীদ চৌধুরী ও আবদুর রাজ্জাক।
এম জাহাঙ্গীর বলেন, এসইসি সূচকে সার্কিট ব্রেকার বেঁধে দিলেও ২০ জানুয়ারি সূচক ৫৮৭ পয়েন্ট কমে যায়। অথচ সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী সূচক ২২৫ পয়েন্টের বেশি কমার কথা নয়। সূচক ৫৮৭ পয়েন্ট কমার মাধ্যমে এসইসির নির্দেশনা ভঙ্গ হয়েছে। তাই কমিশন যদি ওই দিনের লেনদেন বাতিল না করে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শনিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১১
বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশে দাম অনেক বেশি
দেশীয় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অধিক হারে বাড়ছে। আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করালেও এর পুরোপুরি সত্যতা মিলছে না।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কতিপয় পণ্য গত এক বছরে যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় দেশীয় বাজারে বেড়েছে অনেক বেশি হারে। পণ্যগুলো হচ্ছে চাল, গম, সয়াবিন তেল ও পাম তেল। তবে চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন গত বৃহস্পতিবার এসব পণ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। তুলনার জন্য ভিত্তি ধরা হয়েছে ১৯ জানুয়ারিকে।
চাল: ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের চালের (আন্তর্জাতিক বাজারে লং গ্রেইন নামে পরিচিত) দাম ছিল প্রতি টন ৩৭৭ দশমিক ৯৪ ডলার। বছরব্যাপী বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও এক মাস আগে তা ৪৩২ ডলার পর্যন্ত দর ওঠে। সপ্তাহ খানেক আগে কিছুটা কমে নেমে আসে ৪২৬ ডলারে। তবে গত বুধবার এক লাফে নেমে আসে ৪১২ দশমিক ৫৮ ডলারে। সে হিসাবে বুধবার পর্যন্ত বিশ্ববাজারে এক বছরে চালের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
একইভাবে মাঝারি মানের (মিডিয়াম গ্রেইন) চালের দাম এক বছর আগে ছিল টনপ্রতি ৩৬৯ দশমিক ৬৭ ডলার, যা বুধবারে ছিল ৪০৭ ডলার। বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। মোটা চালের মানের গুঁড়া (ব্রোকেন) চালের দাম ছিল ২৫৭ দশমিক ৮৬ ডলার, গত বুধবারে যার দাম হয় ২৯১ দশমিক ৯২ ডলার। এক বছরে বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, দেশীয় বাজারে উত্তম মানের মিনিকেট বা নাজিরশাইল চালের দাম এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এক বছর আগে মিনিকেট বিক্রি হতো ৩৬ থেকে ৪৪ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
মাঝারি মানের পাইজাম চালের দাম এক বছর আগে ছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর স্বর্ণা, লতা বা মোটা চাল এক বছর আগে ছিল ২৬ থেকে ২৮ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা। বৃদ্ধির হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গম: প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ছিল ২০১ দশমিক ৯১ ডলার। এক মাস আগে তা বেড়ে দাম ওঠে ২৭২ ডলারে। গত বুধবার তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৯২ দশমিক ৯২ ডলারে। এক বছরে গমের দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
গমের দাম বাড়ায় স্বাভাবিক কারণেই দেশীয় আটার বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। টিসিবির হিসাবেই এক বছরে আটার দাম বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছর আগে যে খোলা আটা বিক্রি হতো ২২ থেকে ২৩ টাকা কেজিতে, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৩-৩৪ টাকা কেজিতে।
ভোজ্যতেল: আন্তর্জাতিক বাজারে গত বুধবার সয়াবিন তেলের দর ছিল এক হাজার ২৭১ দশমিক ৮৩ ডলার। তার আগের দিন ছিল এক হাজার ২৬৮ ডলার এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল এক হাজার ২৬৬ ডলার। তবে এক মাস আগে এ দাম এক হাজার ২১৪ ডলার এবং এক বছর আগে ৮৩৮ ডলার ছিল। বছরে দাম বেড়েছে ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দেশের বাজারে এক বছর আগে যে খোলা সয়াবিন তেল ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তার দাম ৯৯ থেকে ১০৩ টাকা।
টিসিবির হিসাবে, দেশীয় বাজারে সয়াবিন তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বেড়েছে। বৃদ্ধির হার ৩৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
তবে দেশীয় বাজারে পাম তেলের দাম বাড়ার হার অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরে বেড়েছে ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ। আর দেশীয় বাজারে বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। এক বছর আগের ৫৯ থেকে ৬১ টাকা লিটার দরে বিক্রি হওয়া পাম তেল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯২ টাকা লিটারে।
চিনি: এক বছর আগে উন্নত মানের অপরিশোধিত চিনির টন ছিল ৬৩৮ ডলার। এক সপ্তাহ আগে তা ৭২২ ডলারে উঠলেও গত বুধবারেই কমে ৬৮৭ ডলারে নেমে এসেছে। এক বছরে অপরিশোধিত চিনির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ।
একই সময়ে দেশে উন্নত মানের পরিশোধিত চিনির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এক সপ্তাহ ধরেই পরিশোধিত চিনির দর কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় তেমন একটা বাড়েনি চিনির দাম। এক বছর আগে বিক্রি হতো ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা কেজিতে। বর্তমান বাজারদর ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা কেজি।
যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর সুযোগটা নেন। তা ছাড়া খুচরা পর্যায় অনেকটা দায়ী। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। খুচরা বাজার তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই।
এফবিসিসিআই সভাপতি মনে করেন, নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিকারক আরও বেশি থাকা উচিত। সরকারের দিক থেকে সুযোগ-সুবিধা দিলেই ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।
এ কে আজাদ আরও বলেন, দেশীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে খুচরা বাজার ভূমিকা পালন করে। সুতরাং খুচরা বাজারকেও সরকারের নজরে আনা উচিত।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে মাঝে মাঝে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের বাড়ানো দামেরই বরং স্বীকৃতি নিয়ে নিচ্ছেন। গত দেড় মাসে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এ চিত্র দেখা গেছে।
আর চিনির দর যে মোটামুটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে, তার পেছনে রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে চিনির ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া। সম্প্রতি ভোজ্যতেলের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চালের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে চালকল মালিকদের মজুদের প্রবণতাকেও দায়ী করা হয়। সম্প্রতি মজুদের ওপর সময়সীমা ও মজুদের পরিমাণ বেঁধে দিয়েছে সরকার। তার পরও চালের বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী হলেও আরেক অর্থে তাঁরা ভোক্তাও। তাই দ্রব্যমূল্যকে বাগে আনতে টিসিবিকে অধিকতর কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, জনবলকাঠামো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) থেকে অব্যাহতিসহ সংস্থাটিকে শক্তিশালী করার যে নির্দেশ দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তা কেন মানা হচ্ছে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। গত দুই বছরে বারবার টিসিবিকে শক্তিশালী করার জন্য বলা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কতিপয় পণ্য গত এক বছরে যে হারে বেড়েছে, সে তুলনায় দেশীয় বাজারে বেড়েছে অনেক বেশি হারে। পণ্যগুলো হচ্ছে চাল, গম, সয়াবিন তেল ও পাম তেল। তবে চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন গত বৃহস্পতিবার এসব পণ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। তুলনার জন্য ভিত্তি ধরা হয়েছে ১৯ জানুয়ারিকে।
চাল: ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নত মানের চালের (আন্তর্জাতিক বাজারে লং গ্রেইন নামে পরিচিত) দাম ছিল প্রতি টন ৩৭৭ দশমিক ৯৪ ডলার। বছরব্যাপী বাড়া-কমার মধ্যে থাকলেও এক মাস আগে তা ৪৩২ ডলার পর্যন্ত দর ওঠে। সপ্তাহ খানেক আগে কিছুটা কমে নেমে আসে ৪২৬ ডলারে। তবে গত বুধবার এক লাফে নেমে আসে ৪১২ দশমিক ৫৮ ডলারে। সে হিসাবে বুধবার পর্যন্ত বিশ্ববাজারে এক বছরে চালের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
একইভাবে মাঝারি মানের (মিডিয়াম গ্রেইন) চালের দাম এক বছর আগে ছিল টনপ্রতি ৩৬৯ দশমিক ৬৭ ডলার, যা বুধবারে ছিল ৪০৭ ডলার। বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। মোটা চালের মানের গুঁড়া (ব্রোকেন) চালের দাম ছিল ২৫৭ দশমিক ৮৬ ডলার, গত বুধবারে যার দাম হয় ২৯১ দশমিক ৯২ ডলার। এক বছরে বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, দেশীয় বাজারে উত্তম মানের মিনিকেট বা নাজিরশাইল চালের দাম এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এক বছর আগে মিনিকেট বিক্রি হতো ৩৬ থেকে ৪৪ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
মাঝারি মানের পাইজাম চালের দাম এক বছর আগে ছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর স্বর্ণা, লতা বা মোটা চাল এক বছর আগে ছিল ২৬ থেকে ২৮ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা। বৃদ্ধির হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
গম: প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ছিল ২০১ দশমিক ৯১ ডলার। এক মাস আগে তা বেড়ে দাম ওঠে ২৭২ ডলারে। গত বুধবার তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৯২ দশমিক ৯২ ডলারে। এক বছরে গমের দাম বেড়েছে ৩১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
গমের দাম বাড়ায় স্বাভাবিক কারণেই দেশীয় আটার বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। টিসিবির হিসাবেই এক বছরে আটার দাম বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছর আগে যে খোলা আটা বিক্রি হতো ২২ থেকে ২৩ টাকা কেজিতে, বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৩-৩৪ টাকা কেজিতে।
ভোজ্যতেল: আন্তর্জাতিক বাজারে গত বুধবার সয়াবিন তেলের দর ছিল এক হাজার ২৭১ দশমিক ৮৩ ডলার। তার আগের দিন ছিল এক হাজার ২৬৮ ডলার এবং এক সপ্তাহ আগে ছিল এক হাজার ২৬৬ ডলার। তবে এক মাস আগে এ দাম এক হাজার ২১৪ ডলার এবং এক বছর আগে ৮৩৮ ডলার ছিল। বছরে দাম বেড়েছে ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে দেশের বাজারে এক বছর আগে যে খোলা সয়াবিন তেল ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তার দাম ৯৯ থেকে ১০৩ টাকা।
টিসিবির হিসাবে, দেশীয় বাজারে সয়াবিন তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বেড়েছে। বৃদ্ধির হার ৩৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
তবে দেশীয় বাজারে পাম তেলের দাম বাড়ার হার অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরে বেড়েছে ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ। আর দেশীয় বাজারে বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ। এক বছর আগের ৫৯ থেকে ৬১ টাকা লিটার দরে বিক্রি হওয়া পাম তেল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯২ টাকা লিটারে।
চিনি: এক বছর আগে উন্নত মানের অপরিশোধিত চিনির টন ছিল ৬৩৮ ডলার। এক সপ্তাহ আগে তা ৭২২ ডলারে উঠলেও গত বুধবারেই কমে ৬৮৭ ডলারে নেমে এসেছে। এক বছরে অপরিশোধিত চিনির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ।
একই সময়ে দেশে উন্নত মানের পরিশোধিত চিনির দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এক সপ্তাহ ধরেই পরিশোধিত চিনির দর কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় তেমন একটা বাড়েনি চিনির দাম। এক বছর আগে বিক্রি হতো ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা কেজিতে। বর্তমান বাজারদর ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা কেজি।
যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর সুযোগটা নেন। তা ছাড়া খুচরা পর্যায় অনেকটা দায়ী। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। খুচরা বাজার তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই।
এফবিসিসিআই সভাপতি মনে করেন, নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিকারক আরও বেশি থাকা উচিত। সরকারের দিক থেকে সুযোগ-সুবিধা দিলেই ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।
এ কে আজাদ আরও বলেন, দেশীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে খুচরা বাজার ভূমিকা পালন করে। সুতরাং খুচরা বাজারকেও সরকারের নজরে আনা উচিত।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সঙ্গে মাঝে মাঝে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের বাড়ানো দামেরই বরং স্বীকৃতি নিয়ে নিচ্ছেন। গত দেড় মাসে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এ চিত্র দেখা গেছে।
আর চিনির দর যে মোটামুটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে, তার পেছনে রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে চিনির ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া। সম্প্রতি ভোজ্যতেলের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চালের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে চালকল মালিকদের মজুদের প্রবণতাকেও দায়ী করা হয়। সম্প্রতি মজুদের ওপর সময়সীমা ও মজুদের পরিমাণ বেঁধে দিয়েছে সরকার। তার পরও চালের বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ী হলেও আরেক অর্থে তাঁরা ভোক্তাও। তাই দ্রব্যমূল্যকে বাগে আনতে টিসিবিকে অধিকতর কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, জনবলকাঠামো, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) থেকে অব্যাহতিসহ সংস্থাটিকে শক্তিশালী করার যে নির্দেশ দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তা কেন মানা হচ্ছে না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। গত দুই বছরে বারবার টিসিবিকে শক্তিশালী করার জন্য বলা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন মওদুদ
পুঁজিবাজার নিয়ে দায় স্বীকারকারী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। একই সঙ্গে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ এনে তিনি ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেন। দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বদেশ জাগরণ সংঘের ‘আধিপত্যবাদী আগ্রাসন ও একদলীয় অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন বলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সূত্রে জানা যায়।
আলোচনায় বক্তরা অভিযোগ করেন, জিনিসপত্রের চড়া দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে দেশের মানুষ এখন ভালো নেই। তাঁদের দাবি সরকার এসব নিয়ে ভাবছে না, যার প্রমাণ শেয়ারবাজারে মিলেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমদ বলেন, একশ্রেণীর লোক সম্প্রতি শেয়ারবাজার থেকে নয় হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এ লুটপাটের জন্য দায়ী তাঁরাই, যাঁরা এ ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুতরাং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
মওদুদ আরও বলেন, এ ভুল সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত অর্থমন্ত্রী ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে পদত্যাগ করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি জানান।
আলোচনায় বক্তরা অভিযোগ করেন, জিনিসপত্রের চড়া দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে দেশের মানুষ এখন ভালো নেই। তাঁদের দাবি সরকার এসব নিয়ে ভাবছে না, যার প্রমাণ শেয়ারবাজারে মিলেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মওদুদ আহমদ বলেন, একশ্রেণীর লোক সম্প্রতি শেয়ারবাজার থেকে নয় হাজার কোটি টাকা লুট করেছে। এ লুটপাটের জন্য দায়ী তাঁরাই, যাঁরা এ ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুতরাং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
মওদুদ আরও বলেন, এ ভুল সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত অর্থমন্ত্রী ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে পদত্যাগ করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি জানান।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)